লুঙ্গি ও বাঙালি - লুঙ্গির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও উপকারীতা
"লুঙ্গি ডান্স, লুঙ্গি ডান্স"- গানটার সাথে আমরা সবাই-ই কম-বেশি পরিচিত হলেও লুঙ্গির সাথে আমাদের পরিচয় সেই ছোটবেলা থেকেই । ছোটবেলা থেকেই আমরা দেখে আসছি আরামদায়ক পোশাক হিসেবে রঙ-বেরঙের লুঙ্গির ব্যবহার। বাঙালির ঐতিহ্য বহনকারী এই লুঙ্গির মতো আরামদায়ক পোশাক সারা বিশ্বে দ্বিতীয়টি আর পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। বাংলাদেশে বাস করে লুঙ্গি পরেন নি এমন মানুষ থুক্কু এমন পুরুষ খুঁজে পাওয়া সম্ভবত দুষ্কর। জনপ্রিয় নেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীরও প্রিয় পোশাক ছিল লুঙ্গি।তার লুঙ্গিপ্রীতির কথা বোধ হয় আমরা সকলেই জানি।আর এই লুঙ্গি নিয়েই আমার আজকের এই লেখা।
দেহের নিচের অংশ ঢাকতে ব্যবহৃত হয় লুঙ্গি। সাধারণত ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও শ্রীলংকায় লুঙ্গির প্রচলন বেশি দেখা যায়।এগুলো ছাড়াও মালদ্বীপ, জাপান, আফ্রিকার কিছু কিছু দেশ, পলিনেশীয় দ্বীপপুঞ্জ, মাদাগাস্কা, জিম্বাবুয়ে, মালাউই সহ আরও কিছু স্থানে লুঙ্গির প্রচলন রয়েছে।ধারণা করা হয় লুঙ্গির উৎপত্তি দক্ষিণ ভারতে।দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর বারাদাভারগাল নামক জেলেসম্প্রদায়ের হাতেই এর উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়।দক্ষিণভারত থেকে মিয়ানমার হয়ে লুঙ্গি এদেশে প্রবেশ করেছে বলে কথিত আছে।বর্তমানে বহু সম্প্রদায়ের লোকেরাই এটি ব্যবহার করছে।
বাংলাদেশের অধিকাংশ পুরুষই তাদের দৈনন্দিন কাজ এই লুঙ্গি পরে করে থাকে।সেদিক থেকে বলতে গেলে এটি বাঙালির নিত্যপ্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য উপাদানে পরিণত হয়েছে। উপহার দেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন দিক থেকে এটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
বাংলাদেশের মানুষের রক্তের সাথে যেন মিশে গেছে এই লুঙ্গি। এটি খুবই নরম, নমনীয় ও আরামদায়ক পোশাক। প্রয়োজন অনুসারে এটিকে এক গিট, দুই গিট কিংবা তিন গিট দিয়ে অর্থাৎ ছোট-বড় করে পড়া যায়। বেল্ট-বোতামের ঝামেলা নেই, বাড়তি কোনো খরচও নেই। ঘুমের জন্য খুবই আরামদায়ক, সাধারণ কাজকর্মে সহজেই শরীরের সঙ্গে মানিয়ে নওয়া যায়, টেকসইও বটে। পেট খারাপ হলে দ্রুত গতিতে টয়লেটে যাওয়া যায়, সহজে বায়ু চলাচলেরও বেশ সুবিধা রয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন প্রয়োজনে মালপত্র বেঁধে বোঝাই করার কাজেও হকারদের কাছে লুঙ্গি বেশ জনপ্রিয়। অর্থাৎ কোনোরূপ অসুবিধার চেয়ে লুঙ্গির সুফলই যেন বেশি লক্ষ্য করা যায়।
লুঙ্গি আবহমানকাল ধরে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পোশাক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।আমাদের পোশাক সংস্কৃতিতে লুঙ্গি এক অন্যতম স্থান দখল করে আছে।আমাদের দেশে লুঙ্গিকেন্দ্রিক কর্মসংস্থানও উল্লেখ করার মতো। বাল্যকাল থেকেই এখানকার ছেলেপুলেরা অভ্যস্ত হয়ে যায় লুঙ্গি পরতে পরতে যা তারা আর ছাড়তে পারে না।
লুঙ্গি আমাদের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।এখানকার লোকজন ভালোবাসে লুঙ্গি পরতে।কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আধুনিক পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাবে বর্তমান প্রজন্মের ছেলেপুলে-তরুণেরা লুঙ্গি পরিধান করতে সঙ্কোচ বোধ করে, তারা লুঙ্গি পরাকে হেয়তেয় মনে করে।
তাই চলুন আমরা সবাই ঐতিহ্য রক্ষায় এগিয়ে আসি, নিজে লুঙ্গি পরি, অন্যকে লুঙ্গি পরতে উৎসাহিত করি।
মনে রাখবেন, লুঙ্গিই আশা, গরমকালেরএকমাত্র ভরসা।
Very funny😂😂🤣🤣
ReplyDelete